আল-বাকারা, আয়াত ১৬৫-১৭৭

পৃষ্ঠা নং-৮৫

ব্যাপারে এমন নিশ্চিত বিশ্বাস হলে যে, কুরআন ও সুন্নাহ্‌র জ্ঞানের সাথে তাঁর মধ্যে ইজতিহাদ (উদ্ভাবন)-এর যোগ্যতাও রয়েছে, তবে এমন মুজতাহিদ আলেমের আনুগত্য-অনুসরণ করা জায়েয। অবশ্য এ আনুগত্য তাঁর ব্যক্তিগত হুকুম মানার জন্যে নয়, বরং আল্লাহ্‌র এবং তাঁর হুকুম-আহকাম মানার জন্যেই হতে হবে। যেহেতু আমরা সরাসরি আল্লাহ্‌র সম্পর্কে ওয়াকেফহাল হতে পারি না, সেহেতু কোন মুজতাহিদ আলেমের অনুসরণ করি, যাতেকরে আল্লাহ্‌র বিধি-বিধান অনুযায়ী আমল করা যায়।

অন্ধ অনুসরণ এবং মুজতাহিদ ইমামগণের অনুসরণের মধ্যে পার্থক্যঃ উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা বুঝা যায় যে, যারা সাধারণভাবে মুজতাহিদ ইমামদের অনুসরণের বিরুদ্ধে এ আয়াতটি উদ্ধৃত করেন, তারা নিজেরাই এ আয়াতের আসল প্রতিপাদ্য সম্পর্কে ওয়াকেফহাল নন।

এ আয়াতের বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে ইমাম কুরতুবী লিখেছেন, এ আয়াতে যে পূর্ব-পুরুষের আনুগত্য ও অনুসরণের কথা নিষেধ করা হয়েছে, তার প্রকৃত মর্ম হল ভ্রান্ত এবং মিথ্যা বিশ্বাস ও কার্যকলাপের ক্ষেত্রে বাপ-দাদা ও পূর্ব-পুরুষের অনুসরণ। যথার্থ ও সঠিক বিশ্বাস এবং সৎকর্ম তাদের অনুসরণ করা এর অন্তর্ভূক্ত নয়। যেমন, সূরা ইউসুফে হযরত ইউনুস (‘আলাইহিচ্ছালাম)-এর সংলাপ বর্ণনা প্রসঙ্গে এ দু’টি বিষয়ের বিশ্লেষণ করা হয়েছেঃ

-‘আমি সে জাতির ধর্মবিশ্বাসকে পরিহার করেছি, যারা আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস করে না এবং যারা আখেরাতকে অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে আমি অনুসরণ করেছি আমাদের পিতা ইব্‌রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুব (‘আলাইহিমুচ্ছালাম)-এর ধর্মবিশ্বাসের।

এ আয়াতের দ্বারা প্রকৃষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে যায় যে, মিথ্যা ও ভ্রান্ত বিষয়ে বাপ-দাদাদের অনুসরণ করা হারাম, কিন্তু বৈধ ও সৎকর্মের বেলায় তা জায়েয; বরং প্রশংসনীয়।

ইমাম কুরতুবী এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে মুজতাহিদ ইমামগণের আনুগত্য ও অনুসরণ সম্পর্কিত মাসআলা-মাসায়েল এবং অন্যান্য বিধি-বিধানেরও উল্লেখ করেছেন।

হালাল খাওয়ার বরকত ও হারাম খাদ্যের অকল্যাণঃ আলোচ্য আয়াতে যেমন হারাম খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনিভাবে হালাল ও পবিত্র বস্তু খেতে এবং তা খেয়ে শুকরিয়া আদায় করতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। কারণ, হারাম খেলে যেমন মন্দ অভ্যাস ও অসচ্চরিত্রতা সৃষ্টি হয়, ‘ইবাদতের আগ্রহ স্তিমিত হয়ে আসে এবং দু‘আ কবুল হয় না, তেমনিভাবে হালাল খানায় অন্তরে এক প্রকার নূর সৃষ্টি হয়। তদ্দ্বারা অন্যায়-অসচ্চরিত্রতার প্রতি ঘৃণাবোধ এবং সততা ও সচ্চরিত্রতার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়; ‘ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি অধিকতর মনোযোগ আসে, পাপের কাজে মনে ভয় আসে এবং দু‘আ কবুল হয় না। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সমস্ত নবী-রসূলগণের প্রতি হিদায়াত করেছেন যে-

يآ يهاالرسل كلوامن الطيبت واعلموا صالحا

‘হে আমার রসূলগণ! তোমরা পবিত্র খাদ্য গ্রহণ কর এবং নেক আমল কর।’

এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নেক আমলের ব্যাপারে হালাল খাদ্যের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনুরূপ হালাল খাদ্য গ্রহণে দু‘আ কবুল হওয়ার আশা এবং হারাম খাদ্যের প্রতিক্রিয়ায় তা কবুল না হওয়ার আশঙ্কাই থাকে বেশি। রসূল (সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ইরশাদ করেছেন, -বহু লোক দীর্ঘ সফর করে আসে এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে দু’হাত তুলে আল্লাহ্‌র দরবারে বলতে থাকে, ইয়া পরওয়ারদিগার! ইয়া রব! কিন্তু যেহেতু সে ব্যক্তির পানাহার সামগ্রী হারাম উপার্জনের, পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছেদ হারাম পয়সায় সংগৃহীত, এমতাবস্থায় তার দু‘আ কি করে কবূল হতে পারে? (মুসলি, তিরমিযী, ইবনে-কাসীর-এর বরাতে)-

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
সব বিভাগ