আল-বাকারা ১৭৮-১৮৭

পৃষ্ঠা নং-৯২

أخرجه الترمذى وقال هذا حديث حسن

“আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক হকদারের হক নির্ধারিত করে দিয়েছেন। সুতরাং এখন থেকে কোন ওয়ারিসের পক্ষে ওসীয়্যত করা জায়েয নয়। (তিরমিযী)

একই ‘হাদীসে হযরত ইবনে ‘আব্বাস (রদ্বিয়াল্ল-হু ‘আনহু)-এর বর্ণনায় একথাও যুক্ত হয়েছেঃ

لا وصية وصية لوارث إلا أن تجيزة الورثة

“কোন ওয়ারিসের জন্য সে পর্যন্ত ওসীয়ত জায়েয হবে না, যে পর্যন্ত অন্যান্য ওয়ারিসগণ অনুমতি না দেয়”। -(জাসসাস)

‘হাদীসের মূল বক্তব্য এই যে, আল্লাহ্‌ তা‘আলাই যেহেতু প্রত্যেক ওয়ারিসের হিসসা বা অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সুতরাং এখন আর ওসীয়ত করার অনুমতি নেই। তবে যদি অন্যান্য ওয়ারিসগণ ওসীয়ত করার অনুমতি দেন, তবে যে কোন ওয়ারিসের জন্য বিশেষভাবে কোন ওসীয়ত করা জায়েয হবে।

তৃতীয় নির্দেশঃ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের ওসীয়ত সম্পর্কেঃ আলেমগণের সর্বসম্মত অভিমত অনুযায়ী মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিগণের পক্ষে এখনো তাদের মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ ওসীয়ত করা জায়েয। এমনকি উত্তরাধিকারীগণের অনুমতিক্রমে সমগ্র সম্পত্তিও ওসীয়ত করা জায়েয এবং গ্রহণযোগ্য।

মাসআলাঃ উপরোক্ত বর্ণনার ভিত্তিতে সাব্যস্ত হচ্ছে যে, যেসব আত্নীয়ের হিসসা বা অংশ কুরআন কারীম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তাদের জন্যে ওসীয়ত করা ওয়াজিব নয়। এমনকি ওয়ারিসগণের অনুমতি ব্যতিত এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের অতিরিক্ত ওসীয়ত করা জায়েযই নয়। তবে যেসব আত্নীয়ের হিসসা বা অংশ কুরআন নির্ধারণ করেনি, তাদের জন্য মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণের মধ্যে ওসীয়ত করার অনুমতি রয়েছে।

মাসআলাঃ যদি কোন ব্যক্তির উপর অন্যের ঋণ বা আমানত থাকে এবং তা পরিশোধ করার জন্যে তার সমগ্র সম্পত্তির ওসীয়ত করতে হয়, তবুও তার পক্ষে তা করতে হবে এবং সমস্ত সম্পত্তির ওসীয়তই বৈধ হবে। রসুলুল্ল-হ (সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, – কারো উপর অন্যের হক থাকলে তার পক্ষে সে সম্পর্কে লিখিত ওসীয়ত করা ব্যতিত তিনটি রাতও কাটানো উচিত নয়।

মাসআলাঃ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তিতে ওসীয়ত করার যে অধিকার দেয়া হয়েছে, সেরুপ ওসীয়ত করার পর জীবিতাবস্থায় তা পরিবর্তন কিংবা বাতিল করে দেয়ারও অধিকার রয়েছে। -(জাসসাস)

صوم -এর শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা। শরী‘আতের পরিভাষায় পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম ‘সওম’। তবে সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পূর্ব থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযায় নিয়তে একাধারে এ ভাবে বিরত থাকলেই তা রোযা বলে গণ্য হবে। সূর্যাস্তের এক মিনিট আগেও যদি কোন কিছু খেয়ে ফেলে, পান করে, কিংবা সহবাস করে, তবে রোযা হবে না। অনুরূপ উপায়ে সবকিছু পূর্ণ দিবস বিরত থাকার পরও যদি রোযায় নিয়ত না থাকে, তবে তাও রোযা হবে না।

সওম বা রোযা ইসলামের মূলভিত্তি বা আরকানের অন্যতম। রোযার অপরিসীম ফযীলত রয়েছে।

পূর্ববর্তী উম্মতের উপর রোযার হুকুমঃ মুসলমানদের প্রতি রোযা ফরয হওয়ার নির্দেশটি একটি বিশেষ নযীর উল্লেখসহ দেয়া হয়েছে। নির্দেশের সাথে সাথে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, রোযা শুধুমাত্র তোমাদের প্রতিই ফরয করা হয়নি, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপরও ফরয করা হয়েছিল। এর দ্বারা যেমন রোযার বিশেষ গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে, তেমনি মুসলমানদের এ মর্মে একটা সান্ত্বনাও দেয়া হয়েছে যে, রোযা একটা কষ্টকর ‘ইবাদত সত্য, তবে তা শুধুমাত্র তোমাদের উপরই ফরয করা হয়নি, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর উপরও ফরয করা হয়েছিল। কেননা, সাধারণতঃ দেখা যায়, কোন একটা ক্লেশকর কাজে অনেক লোক একই সাথে জড়িত হয়ে পড়লে তা অনেকটা স্বাভাবিক এবং সাধারণ বলে মনে হয়। -(রুহুল-মা’আনী)

কুরআনের বাক্য وَالَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ অর্থাৎ, যারা তোমাদের পূর্বে ছিল, –ব্যাপক অর্থবোধক। এর দ্বারা হযরত আদম (‘আলাইহিচ্ছালাম) থেকে শুরু করে হযরত ‘ঈসা (‘আলাইহিচ্ছালাম) পর্যন্ত সকল উম্মত এবং শরী‘আতকেই বোঝায়। এতে বোঝা যায় যে, নামাযের ‘ইবাদত থেকে যেমন কোন উম্মত বা শরী‘আতই বাদ ছিল না, তেমনি রোযাও সবার জন্যই ফরয ছিল।

যারা উল্লেখ করেছেন যে, مِنْ قَبْلِكُمْ বাক্য দ্বারা পূর্ববর্তী উম্মত ‘নাসারা’দের বুঝানো হয়েছে, তাঁরা বলেন- এটা উদাহরণস্বরুপ উল্লেখ করা হয়েছে; অন্যান্য উম্মতের উপর রোযা ফরয ছিল না, তাদের কথায় এ তথ্য বোঝায় না। -(রুহুল-মা’আনী)

আয়াতের মধ্যে শুধু বলা হয়েছে, -‘রোযা যেমন মুসলমানদের উপর ফরয করা হয়েছে, তেমনি পূর্ববর্তী উম্মতগনের উপরও ফরয করা হয়েছিল’; একথা দ্বারা এ তথ্য বুঝায় না যে, আগেকার উম্মতগণের রোযা সমগ্র শর্ত ও প্রকৃতির দিক দিয়ে মুসলমানদের উপর ফরযকৃত রোযারই অনুরূপ ছিল। যেমন, রোযার সময়সীমা, সংখ্যা এবং কখন তা রাখা হবে, এসব ব্যাপারে আগেকার উম্মতদের রোযার সাথে মুসলমানদের রোযার পার্থক্য হতে পারে, বাস্তব ক্ষেত্রে হয়েছেও তাই। বিভিন্ন সময়ে রোযার সময়সীমা এবং সংখ্যার ক্ষেত্রে পার্থক্য হয়েছে। -(রুহুল-মা’আনী)

لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ  বাক্যে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, ‘তাকওয়া’ বা পরহেযগারীর শক্তি অর্জন করার ব্যাপারে রোযার একটা বিশেষ ভূমিকা বিদ্যমান। কেননা, রোযার মাধ্যমে প্রবৃত্তির তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে বিশেষ শক্তি অর্জিত হয়। প্রকৃত প্রস্তাবে সেটাই ‘তাকওয়া’ বা পরহেযগারীর ভিত্তি।

রুগ্ন ব্যক্তির রোযাঃ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِيْضًا  বাক্যে উল্লেখিত ‘রুগ্ন’ সে ব্যক্তিকে বোঝায়, রোযা রাখতে যার কঠিন কষ্ট হয় অথবা রোগ মারাত্বকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরবর্তী আয়াত وَلَا يُرِيْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ এর মধ্যে সে দিকেই ইশারা করা হয়েছে। ফেকাহবিদ আলেমগণের সর্বসম্মত অভিমত তাই।

          মুসাফিরের রোযাঃ আয়াতের অংশ أَوْعَلَى سَفَرٍ এর মধ্যে مسافر না বলে عَلَى سَفَرٍ শব্দ ব্যবহার করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

প্রথমতঃ শুধুমাত্র আভিধানিক অর্থের সফর যথা, বাড়ীঘর থেকে বের হয়ে কোথাও গেলেই রোযার ব্যাপারে সফর-জনিত ‘রুখসত’ তথা অব্যাহতি পাওয়া যাবে না; সফর দীর্ঘ হতে হবে। কেননা, – عَلَى سَفَرٍ- –

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
সব বিভাগ