আল-ফাতি‘হা, পৃষ্ঠা ২-৪

পৃষ্ঠা নং-২

بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

পরম করুণাময় দয়ালূ আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি

بِسۡمِ ٱللَّهِ  কুরআনের একটি আয়াত:

بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ কুরআন শরীফের সূরা নাম্‌লের একটি আয়াত বা অংশ। সূরা তাউবা ব্যতীত প্রত্যেক সূরার প্রথমে بِسۡمِ ٱللَّهِ লেখা হয়। بِسۡمِ ٱللَّهِ সূরা ফাতি‘হার অংশ না অন্যান্য সকল সূরারই অংশ, এতে ইমামগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। ইমাম আবূ ‘হানীফা (র‘হমাতুল্ল-হি ‘আলাইহি) বলেছেন, بِسۡمِ ٱللَّهِ  সূরা নাম্‌ল্‌ ব্যতীত অন্য কোন সূরার অংশ নয়। তবে এটি এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আয়াত যা প্রত্যেক সূরার প্রথমে লেখা এবং দু’টি সূরার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে।

কুরআন তিলাওয়াত ও প্রত্যেক কাজ বিসমিল্লাহ্‌সহ আরম্ভ করার আদেশ:

জাহিলিয়্যাত যুগে লোকদের অভ্যাস ছিল, তারা তাদের প্রত্যেক কাজ উপাস্য দেব-দেবীদের নামে শুরু করতো। এ প্রথা রহিত করার জন্য জিব্‌রীল (‘আ,) পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম যে আয়াত নিয়ে এসেছিলেন, তাতে আল্লাহ্‌র নামে কুরআন তিলাওয়াত আরম্ভ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। যথা إقْرَأ بِاسۡمِ رِبِّكَ الَّذِى خَلَقَ অর্থাৎ,পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে।

কোন কোন বর্ণনায় দেখা যায়, স্বয়ং রসূলুল্ল-হ (সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও প্রথমে প্রত্যেক কাজ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ বলে আরম্ভ করতেন এবং কোন কিছু লেখাতে হলেও এ কথা প্রথমে লেখাতেন। কিন্তু  بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ অতীর্ণ হওয়ার পর সর্বকালের জন্য ‘বিস্‌মিল্লাহির্‌ র‘হমানির্‌’ র‘হীম বলে সব কাজ শুরু করার নিয়ম প্রবর্তিত হয়েছে। [ক্বুরতুবী,রু‘হুল মা‘আনী]

কুরআন শরীফের স্থানে স্থানে উপদেশ রয়েছে যে, প্রত্যেক কাজ বিস্‌মিল্লাহ্‌ বলে আরম্ভ কর। রসূলুল্ল-হ (সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে কাজ বিস্‌মিল্লাহ্‌ ব্যতীত আরম্ভ করা হয়,তাতে কোন বরকত থাকে না।”

এক ‘হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, ঘরের দরজা বন্ধ করতে বিস্‌মিল্লাহ্‌ বলবে, বাতি নিভাতেও বিস্‌মিল্লাহ্‌ বলবে, পাত্র আবৃত করতেও বিস্‌মিল্লাহ্‌ বলবে। কোন কিছু খেতে, পানি পান করতে, ওদ্বূ/অযু করতে, সওয়ারীতে আরোহণ করতে এবং তা থেকে অবতরণকালেও বিস্‌মিল্লাহ্‌ বলার নির্দেশ কুরআন ও ‘হাদীসে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে। [ক্বুরতুবী]

বিস্‌মিল্লাহ্‌র তাফসীর:

বিস্‌মিল্লাহ্‌ বাক্যটি তিনটি শব্দ দ্বারা গঠিত। প্রথমত: ‘বা’ বর্ণ, দ্বিতীয়ত: ‘ইসম’ ও তৃতীয়ত: ‘আল্লাহ’। ‘আরবী ভাষায় ‘বা’ বর্ণটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তন্মধ্যে তিনটি অর্থ এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে এবং এ তিনটির যে কোন একটি অর্থ এ ক্ষেত্রে গ্রহণ করা যেতে পারে। এক-সংযোজন। অর্থাৎ, এক বস্তুকে অপর বস্তুর সাথে মিলানো বা সংযোগ ঘটানো অর্থে। দুই-ইস্তি‘আনাত। অর্থাৎ, কোন বস্তুর সাহায্য নেয়া। তিন কোন বস্তু থেকে বরকত হাসিল করা।

‘ইস্‌ম্‌’ শব্দের ব্যাখ্যা অত্যন্ত ব্যাপক। মোটামুটিভাবে এতটুকু জেনে রাখা যথেষ্ট যে, ‘ইস্‌ম্‌’ নামকে বলা হয়। ‘আল্লাহ্‌’ শব্দ সৃষ্টিকর্তার নামসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মহত্ত্বর ও তাঁর যাবতীয় গুণাবলীর সম্মিলিত রূপ। কোন কোন ‘আলিম একে ইস্‌মে ‘আ’যম বলেও অভিহিত করেছেন।

এ নামটি আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য নয়। এজন্যই এ শব্দটির দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না। কেননা, আল্লাহ্‌ এক; তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। মোটকথা, আল্লাহ্‌ এমন এক সত্তার নাম, যে সত্তা পালনকর্তার সমস্ত গুণাবলীর এক অসাধারণ প্রকাশবাচক। তিনি অদ্বিতীয় ও নজীরবিহীন তথা অতুলনীয়। এজন্য বিস্‌মিল্লাহ্‌ শব্দের মধ্যে ‘বা’-এর তিনটি অর্থের সামঞ্জস্য হচ্ছে আল্লাহ্‌র নামের সাথে, তাঁর নামের সাহায্যে এবং তাঁর নামের বরকতে।

তা‘আওউয শব্দের অর্থ أعُوْذُ بِاللّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ  পাঠ করা।

কুরআনে পাকে ইরশাদ হয়েছে, যখন কুরআন পাঠ কর, তখন শয়তানের প্রতারণা থেকে আল্লাহ্‌ তা‘আলার নিকট আশ্রয় চাও।

দ্বিতীয়ত: কুরআন পাঠের প্রাক্কালে ‘আঊযু বিল্লা-হ্‌ পাঠ করা ইজমায়ে উম্মত দ্বারা সুন্নাহ/সুন্নত বলে স্বীকৃত হয়েছে। এ পাঠ সলাত/নামযের মধ্যেই হোক বা সলাত/নামাযের বাইরেই হোক। কুরআন তিলাওয়াত ব্যতীত অন্যান্য কাজে শুধু বিস্‌মিল্লাহ্‌ পাঠ করা সুন্নাহ/সুন্নত, আ‘ঊযু বিল্লা-হ্‌ নয়। তিলাওয়াত কালে উভয়টি পাঠ করা সুন্নাহ/সুন্নত। তবে একটি সূরা শেষ করে শুধুমাত্র সূরা তাউবা ব্যতীত অপর সূরা আরম্ভ করার পূর্বে যখন কুরআন তিলাওয়াত আরম্ভ করা হয় তখন আ‘ঊযু বিল্লা-হ্‌ ও বিস্‌মিল্লাহ্‌ উভয়টিই পাঠ করতে হয়। তিলাওয়াত করার সময় মধ্যে সূরা বারাআত আসলে তখন বিস্‌মিল্লাহ্‌ পড়া নিষেধ। কিন্তু প্রথম তিলাওয়াতই যদি সূরা বারাআত দ্বারা আরম্ভ হয়, তবে তা‘আওউয/আ‘ঊযু বিল্লা-হ্‌ ও তাসমিয়াহ/বিসমিল্লাহ উভয়টিই পাঠ করতে হবে। [ফতোয়া ‘আলমগীরি]

‘বিসমিল্লাহির্‌ র‘হমানির্‌ র‘হীম’, কুরআনের সূরা নাম্‌ল্‌ এর একটি আয়াতের অংশ এবং দু’টি সূরার মাঝখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আয়াত। তাই অন্যান্য আয়াতের ন্যায় এ আয়াতটির সম্মান করাও ওয়াজিব। ওদ্বূ/অযু ছাড়া এটি স্পর্শ করা জায়েয নয়। অপবিত্র অবস্থায় যথা হায়েয (স্ববালগ মেয়েদের প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে যে রক্ত প্রবাহিত হয়), নেফাস (মহিলাদের বাচ্চা প্রসভের পর যে রক্ত প্রবাহিত হয়)-এর সময়, (পবিত্র হওয়ার পূর্বে) তিলাওয়াতরূপে পাঠ করাও না-জায়েয। তবে কোন কাজ কর্ম আরম্ভ করার পূর্বে (যথা-পানাহার ইত্যাদি) দু‘আরূপে পাঠ করা সব সময়ই জায়েয।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
সব বিভাগ